Skip to main content

Featured Post

ওলামা মাশায়েখদের খাস মজলিস। শেখ ইব্রাহীম দেওলা সাহেব (দাঃবাঃ)ভারত । ২০২৩। পুরাতন সাথীদের জোড় ২০২৩

ওলামা মাশায়েখদের উদ্দেশ্যে বয়ান আলামী শুরার আকাবীর হজরত মাওঃ ইব্রাহীম দেওলা সাহেব দাঃবাঃ পুরাতন সাথীদের ৫ দিনের জোড়। দিয়াবাড়ী উত্তরা, ঢাকা।

নিখিলের সেরা সুন্দর সৃষ্টি প্রিয় নবীজি (ﷺ )


প্রিয় নবী ﷺ কেমন ছিলেন, তা কোরআন হাদীসে স্পষ্ট বর্ণিত রয়েছে। এখানে যেমন নবী করীম ﷺ চরিত্র মাধুরির বর্ণনা পাওয়া যায়, তেমনি পাওয়া যায় তাঁর সুদর্শন চেহারা, দেহাবয়ব শরীফ ও আকৃতি মুবারকের বিশদ বর্ণনা।


রবিউল আওয়ালের পবিত্র অবসরে এসবের বিশুদ্ধ বিবরণ দেওয়া সমীচীন মনে করি। আরবিতে এ সম্পর্কিত বর্ণনার নাম শামায়িল। সুরত। চরিতামৃত মুবারকের নাম সীরত। জীবনাদর্শকে বলা হয় সুন্নাহ বা সুন্নত। হুযুর আকরাম (ﷺ) এর নাসিকা মোবারক এত নূরানি এবং উজ্জ্বল ছিল যে, কোনো দর্শক ভালোভাবে খেয়াল করে না দেখলে সাধারণত এরকমই দেখতে পেত যে, তাঁর ﷺ নাসিকা মোবারক উন্নত; কিন্তু আসলে তা অতিরিক্ত উঁচু বা উন্নত ছিল না, বরং নূরের তাজাল্লির ফলে এরকম উঁচু মনে হতো। অধিকন্তু এ দৃশ্যমান উচ্চতার মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব, মর্যাদা ও পরম নেকবখতির দ্যুতি পরিস্ফুটিত হতো।

হুযুর আকরাম (ﷺ) এর মুখ মোবারক সম্পর্কে হযরত জাবির রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে সহীহ মুসলিমে এরূপ বর্ণনা এসেছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রশস্ত মুখগহ্বরের অধিকারী ছিলেন। এরকম বর্ণনা শামায়েলে তিরমিযীতে হযরত ইবনে আবি হালা (رضي الله عنها) কর্তৃক বর্ণিত হাদীস শরীফে পাওয়া যায়।

হুযুর আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রশস্ত মুখগহ্হরের অধিকারী ছিলেন বলে তাঁর পবিত্র মুখনিঃসৃত বাণী হতো ভরাট স্বরবিশিষ্ট।

নবী কারীম (ﷺ) এর পবিত্র মুখ থেকে যে বাণী বের হতো, তা ছিল নেহায়েত সম্পন্ন ও ভরাট বাক্যের সমাহার। তিনি কখনো অস্পষ্ট ও অসম্পূর্ণ শব্দ উচ্চারণ করতেন না। তিনি ছিলেন নিতান্তই স্পষ্টভাষী।

নবী কারীম (ﷺ) এর বাণী সর্বদাই ঠোঁটের কাছাকাছি থাকত। দ্বিধা-দ্বন্দের সাথে বিলম্ব করে তিনি কিছু বলতেন না। নবী কারীম (ﷺ)-এর সামনের দাঁত উজ্জ্বল, শুভ্র ও প্রশস্ত ছিল। হযরত আলী  (رضي الله عنها)  কর্তৃক বর্ণিত হাদীসে এসেছে, রাসূল (ﷺ) এর সামনের দাঁত উজ্জ্বল ও চকচকে ছিল। হযরত ইবনে আব্বাস  (رضي الله عنها)  কর্তৃক বর্ণিত হাদীসে এসেছে, হুযুর পাক (ﷺ) এর ওষ্ঠযুগল প্রশস্ত ছিল। যখন তিনি কথোপকথন করতেন, তখন এরকম দেখা যেত, যেন ওষ্ঠযুগলের ফাঁক দিয়ে সামনের দাঁত থেকে নূরের ঝিলিক বেরোচ্ছে।

ইমাম তাবরানী রহ. আওসাত নামক কিতাবে বর্ণনা করেছেন, হুযুর আকরাম (ﷺ.) এর ওষ্ঠদ্বয় এবং মুখগহ্হরের সৌন্দর্য ও আকর্ষণ সমগ্র মানবজাতির চেয়ে বেশি ছিল। এক বর্ণনায় আছে, হুযুর পাক (ﷺ) এর দন্ত মোবারক পরিমিত বড় ছিল। অর্থাৎ, মহানবী (ﷺ) এর মুখ সৌন্দর্যের দিক দিয়ে পূর্ণ ও প্রকৃষ্ট ছিল।

রাসূলে আকরাম (ﷺ) এর মুখের লালা রোগীদের জন্য পূর্ণ শেফা ছিল। হাদীস শরীফে আছে, খায়বারের যুদ্ধের দিন হযরত আলী (রা.)র চোখে যন্ত্রণা হচ্ছিল, তখন হুযুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় মুখের লালা মোবারক তাঁর চোখে লাগিয়ে দিলেন। সঙ্গে সঙ্গে হযরত আলী  (رضي الله عنها)  সুস্থ হয়ে গেলেন।

অন্য এক ঘটনা। একদা হুযুর (ﷺ) এর কাছে একটি পানির মশক আনা হলো। তিনি সেখান থেকে এক আঁজলা পানি নিয়ে কুলি করে উক্ত মশকের মধ্যে ফেলে দিলেন। এরপর উক্ত মশকের পানি যখন কূপে ফেলা হলো, তখন তার পানি থেকে কস্তুরির সুঘ্রাণ ছড়াতে লাগল।

একদা হযরত আনাস  (رضي الله عنها) র কূপের পানিতে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় পবিত্র মুখের লালা মোবারক ফেলে দিলেন। এরপর দেখা গেল, মদীনা শরীফের সমস্ত কূপের পানির চেয়ে উক্ত কূপের পানিই অধিক সুপেয় আর সুস্বাদু হয়ে উঠেছিল।

একবার হুযুর (ﷺ) এর কাছে কতিপয় দুগ্ধপোষ্য শিশুকে আনা হলো। তিনি স্বীয় মুখের লালা মোবারক তাদের মুখে দিলেন। অতঃপর শিশুগুলো এতই পরিতৃপ্ত হলো যে, সারাদিন তারা আর দুধই পান করল না।

ইমাম হাসান  (رضي الله عنها)  একদা অত্যন্ত পিপাসার্ত হয়ে পড়লেন। হুযুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় জিহবা মোবারক তাঁর মুখের ভেতর পুরে দিলেন। প্রিয় দৌহিত্র নানাজানের জিহবা মোবারক চুষতে লাগলেন। সমস্ত দিন তিনি আর ক্ষুৎপিপাসা অনুভব করলেন না। এ ধরনের অসংখ্য মোজেযা রয়েছে।


। উবায়দুর রহমান খান নদভী

Comments

Popular posts from this blog

দাওয়াত ও তাবলীগের সংকটের নেপথ্যে-মাওলানা সাদ সাহেবের দলীলবিহীন গায়বী কথা বলা ও বিদআত আবিষ্কার করা

মাওলানা আব্দুল মালেক সাহেব (দাঃবাঃ) ।। আপনারা জানেন, দ্বীনের বিষয়ে কেউ কোনো কথা বলতে হলে দলীলভিত্তিক বলতে হয়। আন্দাযে কথা বলা, ধারণাভিত্তিক কথা বলা, অনুমান করে কথা বলা জায়েয নেই। গায়বী কথা, যেটা জানার সূত্র হল একমাত্র অহী। আল্লাহ তাআলা নবীদেরকে অহীর মাধ্যমে অনেক গায়বী কথা জানিয়েছেন। এখন তো অহী বাকি নেই। তাহলে এখন যদি গায়বী কথা বলে, সেটা অনুমান ভিত্তিক হবে না? মাওলানা সা‘দ সাহেবের বড় এক মসীবত হল গায়বী কথা বলা, গায়বী কথা মানেই তো দলীলবিহীন কথা। গায়বী কথা মানেই তো যার কোনো দলীল নেই। যে গায়বী বিষয়গুলোর আলোচনা কুরআন-হাদীসে এসে গেছে সেগুলো তো কুরআন-হাদীসে আছেই এবং সেগুলো অহীর মাধ্যমে এসেছে। কিন্তু এর বাইরে তিনি অনেক গায়বী এবং আন্দাযে কথা বলেন। এটা ছোট ভুল না বড় ভুল? বড় ভুল। এটা কি সগীরা গোনাহ না কবীরা গোনাহ? কবীরা গোনাহ। মাওলানা সা‘দ সাহেবের বড় মসীবত এবং একটি বড় ভুল হল এই গায়বী কথা বলা। ২. মাওলানা সা‘দ সাহেবের আরেকটি বড় ভুল হল, তিনি #দলীল_পরিপন্থী এমন অনেক #গলত_মাসআলা এবং #গলত_মতবাদ_আবিষ্কার করতে থাকেন, কোনো সাহাবী, কোনো তাবিয়ী এবং কোনো মুজতাহিদ এমন কথা বলেননি; বরং তা সম্পূর্ণ তার নিজের আবি...

সরেজমিন : ফিরে দেখা ১ ডিসেম্বর, কী ঘটেছিল সেদিন

সরেজমিন : ফিরে দেখা ১ ডিসেম্বর, কী ঘটেছিল সেদিন [এ লেখাটির প্রধান উদ্দেশ্য ইতিহাস সংরক্ষণে অংশগ্রহণ। কারণ ইতিহাসের যথাযথ সংরক্ষণ- এটি প্রতিটি প্রজন্মের উপর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের হক। আরেকটি উদ্দেশ্য হল, এতাআতী ভাইদের হেদায়েত কামনা। হয়ত এটা পড়ে তাদের কারো বোধ জাগবে, অন্তরে আল্লাহর ভয় সৃষ্টি হবে এবং সঠিক রাস্তায় ফিরে আসবে। হেদায়েত আল্লাহর হাতে, তিনিই তাওফীক দেওয়ার মালিক। আর যাদের মজলুমিয়াতের কিছুটা বিবরণ এই লেখায় উঠে এসেছে তাদের জন্য এটা ইহসান ও ইহতিসাবের সিফাত যিন্দা করার যরীআ হতে পারে। আল্লাহ তাদেরকে নিজের হেফাযতে রাখুন। এমন কথা ও কাজ থেকে বাঁচার তাওফীক দান করুন, যা মজলুমিয়াতের ফায়দা ও বরকত নষ্ট করে দেয় বা কমিয়ে দেয়। আশা করি, তারা পূর্বের মতো وَ لْیَعْفُوْا وَ لْیَصْفَحُوْا اَلَا تُحِبُّوْنَ اَنْ یَّغْفِرَ اللهُ لَكُمْ (তারা যেন ওদেরকে ক্ষমা করে এবং ওদের দোষ-ত্রুটি উপেক্ষা করে। তোমরা কি চাও না, আল্লাহ তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিন? -সূরা নূর (২৪) : ২২) -এর উপর আমল জারি রাখবেন। -তত্ত্বাবধায়ক]  - মাসউদুয যামান শহীদ ১ ডিসেম্বর ২০১৮।  মনে পড়ে যায় টঙ্গীর ইজতিমা ময়দানের সেই লোমহর্ষক কাহিনী, ...

ওলামা মাশায়েখদের খাস মজলিস। শেখ ইব্রাহীম দেওলা সাহেব (দাঃবাঃ)ভারত । ২০২৩। পুরাতন সাথীদের জোড় ২০২৩

ওলামা মাশায়েখদের উদ্দেশ্যে বয়ান আলামী শুরার আকাবীর হজরত মাওঃ ইব্রাহীম দেওলা সাহেব দাঃবাঃ পুরাতন সাথীদের ৫ দিনের জোড়। দিয়াবাড়ী উত্তরা, ঢাকা।