Skip to main content

Featured Post

ওলামা মাশায়েখদের খাস মজলিস। শেখ ইব্রাহীম দেওলা সাহেব (দাঃবাঃ)ভারত । ২০২৩। পুরাতন সাথীদের জোড় ২০২৩

ওলামা মাশায়েখদের উদ্দেশ্যে বয়ান আলামী শুরার আকাবীর হজরত মাওঃ ইব্রাহীম দেওলা সাহেব দাঃবাঃ পুরাতন সাথীদের ৫ দিনের জোড়। দিয়াবাড়ী উত্তরা, ঢাকা।

দাওয়াতের কাজের গুরত্ব সম্পর্কে ইমাম গাযালী রহমাতুল্লহ আ’লাইহি এর অভিমত

     


এই কাজের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তাকে ইমাম গায্‌যালী রহমাতুল্লহ আ’লাইহি এইরূপে ব্যক্ত করিয়াছেনঃ ‘ইহাতে কোন সন্দেহ নাই যে, সৎকাজে আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধ দ্বীনের এমন এক শক্তিশালী স্তম্ভ যাহার সহিত দ্বীনের সমস্ত কাজ সম্পর্কযুক্ত। এই কাজকে আঞ্জাম দেয়ার জন্য আল্লহ তায়া’লা সমস্ত আম্বিয়া কেরাম আ’লাইহিমুস সালাম কে দুনিয়াতে পাঠাইয়াছেন। খোদা না করুন যদি এই কাজকে ছাড়িয়া দেয়া হয় এবং ইহার ইলম ও আমালকে পরিত্যাগ করা হয় তবে নাউযুবিল্লাহ নবুওয়াত বেকার সাব্যস্ত হইয়া যাইবে, অলসতা ব্যাপক হইয়া যাইবে, গোমরাহী ও পথভ্রষ্টতার প্রশস্ত রাস্তাসমূহ খুলিয়া যাইবে, সারা দুনিয়া অজ্ঞতায় ডুবিয়া যাইবে, সমস্ত কাজ কর্মে খারাবী আসিয়া যাইবে, পারস্পরিক দ্বন্দ্ব ও মতবিরোধ শুরু হইয়া যাইবে, সমাজ খারাপ হইয়া যাইবে, মাখলুক ধ্বংস ও বরবাদ হইয়া যাইবে। এই ধ্বংস ও বরবাদী তখন বুঝে আসিবে যখন হাশরের দিন খোদায়ে পাকের সামনে হাজির হইতে হইবে ও জিজ্ঞাসাবাদ করা হইবে।’

আফসোস, শত আফসোস যে আশংকা ছিল, উহাই সামনে আসিয়া গেল, আর মনে যে খটকা ছিল উহাই চোখে দেখিতে হইল– আল্লহ তায়া’লার বিধান সুনির্ধারিত–ইন্না লিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাহে রজিউন।

সেই সতেজ স্তম্ভের (দাওয়াতের) ইলম ও আমালের নিদর্শনসমূহ মিটিয়া গিয়াছে, উহার হাকীকত ও জাহেরী আমালের বরকতসমূহ খতম হইয়া গিয়াছে। অন্তরে মানুষের প্রতি মানুষের অবজ্ঞা ও ঘৃণা জন্মিয়া গিয়াছে, আল্লহ তায়া’লার সহিত অন্তরের সম্পর্ক বিনষ্ট হইয়া গিয়াছে। নফসের খায়েশাতের অনুসরণে মানুষ জীব জন্তুর মত নির্ভীক হইয়া গিয়াছে। বস্তুতঃ যমীনের বুকে এমন সত্যবাদী মুমিন পাওয়া শুধু কঠিন ও দুর্লভই নহে বরং বিলুপ্ত হইয়া গিয়াছে, যিনি হক ও সত্য প্রকাশের খাতিরে কাহারও তিরষ্কার সহ্য করিবেন।

যদি কোন সাহসী মুমিন বান্দা এই ধ্বংস ও বরবাদীকে দূর করার এবং এই সুন্নতকে জিন্দা করার চেষ্টা করে, এই মুবারক দায়িত্বের বোঝা কাঁধে নিয়া দাঁড়াইয়া যায় এবং এই সুন্নতকে জিন্দা করার লক্ষ্যে হাতা গুটাইয়া ময়দানে অবতীর্ণ হয়,  তবে নিঃসন্দেহে সে সকল মাখলুকের মধ্যে এক বিশিষ্ট মর্যাদা ও মহান ব্যক্তিত্বের অধিকারী হইবে।

ইমাম গায্‌যালী রহমাতুল্লহ আ’লাইহি যে ভাষায় এই কাজের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা বর্ণনা করিয়াছেন, উহা আমাদের সতর্ক ও সজাগ হওয়ার জন্য যথেষ্ট।

#পুস্তিকা_ওয়াহেদ_ইলাজ

Comments

Popular posts from this blog

দাওয়াত ও তাবলীগের সংকটের নেপথ্যে-মাওলানা সাদ সাহেবের দলীলবিহীন গায়বী কথা বলা ও বিদআত আবিষ্কার করা

মাওলানা আব্দুল মালেক সাহেব (দাঃবাঃ) ।। আপনারা জানেন, দ্বীনের বিষয়ে কেউ কোনো কথা বলতে হলে দলীলভিত্তিক বলতে হয়। আন্দাযে কথা বলা, ধারণাভিত্তিক কথা বলা, অনুমান করে কথা বলা জায়েয নেই। গায়বী কথা, যেটা জানার সূত্র হল একমাত্র অহী। আল্লাহ তাআলা নবীদেরকে অহীর মাধ্যমে অনেক গায়বী কথা জানিয়েছেন। এখন তো অহী বাকি নেই। তাহলে এখন যদি গায়বী কথা বলে, সেটা অনুমান ভিত্তিক হবে না? মাওলানা সা‘দ সাহেবের বড় এক মসীবত হল গায়বী কথা বলা, গায়বী কথা মানেই তো দলীলবিহীন কথা। গায়বী কথা মানেই তো যার কোনো দলীল নেই। যে গায়বী বিষয়গুলোর আলোচনা কুরআন-হাদীসে এসে গেছে সেগুলো তো কুরআন-হাদীসে আছেই এবং সেগুলো অহীর মাধ্যমে এসেছে। কিন্তু এর বাইরে তিনি অনেক গায়বী এবং আন্দাযে কথা বলেন। এটা ছোট ভুল না বড় ভুল? বড় ভুল। এটা কি সগীরা গোনাহ না কবীরা গোনাহ? কবীরা গোনাহ। মাওলানা সা‘দ সাহেবের বড় মসীবত এবং একটি বড় ভুল হল এই গায়বী কথা বলা। ২. মাওলানা সা‘দ সাহেবের আরেকটি বড় ভুল হল, তিনি #দলীল_পরিপন্থী এমন অনেক #গলত_মাসআলা এবং #গলত_মতবাদ_আবিষ্কার করতে থাকেন, কোনো সাহাবী, কোনো তাবিয়ী এবং কোনো মুজতাহিদ এমন কথা বলেননি; বরং তা সম্পূর্ণ তার নিজের আবি...

সরেজমিন : ফিরে দেখা ১ ডিসেম্বর, কী ঘটেছিল সেদিন

সরেজমিন : ফিরে দেখা ১ ডিসেম্বর, কী ঘটেছিল সেদিন [এ লেখাটির প্রধান উদ্দেশ্য ইতিহাস সংরক্ষণে অংশগ্রহণ। কারণ ইতিহাসের যথাযথ সংরক্ষণ- এটি প্রতিটি প্রজন্মের উপর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের হক। আরেকটি উদ্দেশ্য হল, এতাআতী ভাইদের হেদায়েত কামনা। হয়ত এটা পড়ে তাদের কারো বোধ জাগবে, অন্তরে আল্লাহর ভয় সৃষ্টি হবে এবং সঠিক রাস্তায় ফিরে আসবে। হেদায়েত আল্লাহর হাতে, তিনিই তাওফীক দেওয়ার মালিক। আর যাদের মজলুমিয়াতের কিছুটা বিবরণ এই লেখায় উঠে এসেছে তাদের জন্য এটা ইহসান ও ইহতিসাবের সিফাত যিন্দা করার যরীআ হতে পারে। আল্লাহ তাদেরকে নিজের হেফাযতে রাখুন। এমন কথা ও কাজ থেকে বাঁচার তাওফীক দান করুন, যা মজলুমিয়াতের ফায়দা ও বরকত নষ্ট করে দেয় বা কমিয়ে দেয়। আশা করি, তারা পূর্বের মতো وَ لْیَعْفُوْا وَ لْیَصْفَحُوْا اَلَا تُحِبُّوْنَ اَنْ یَّغْفِرَ اللهُ لَكُمْ (তারা যেন ওদেরকে ক্ষমা করে এবং ওদের দোষ-ত্রুটি উপেক্ষা করে। তোমরা কি চাও না, আল্লাহ তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিন? -সূরা নূর (২৪) : ২২) -এর উপর আমল জারি রাখবেন। -তত্ত্বাবধায়ক]  - মাসউদুয যামান শহীদ ১ ডিসেম্বর ২০১৮।  মনে পড়ে যায় টঙ্গীর ইজতিমা ময়দানের সেই লোমহর্ষক কাহিনী, ...

ওলামা মাশায়েখদের খাস মজলিস। শেখ ইব্রাহীম দেওলা সাহেব (দাঃবাঃ)ভারত । ২০২৩। পুরাতন সাথীদের জোড় ২০২৩

ওলামা মাশায়েখদের উদ্দেশ্যে বয়ান আলামী শুরার আকাবীর হজরত মাওঃ ইব্রাহীম দেওলা সাহেব দাঃবাঃ পুরাতন সাথীদের ৫ দিনের জোড়। দিয়াবাড়ী উত্তরা, ঢাকা।