ওলামা মাশায়েখদের উদ্দেশ্যে বয়ান আলামী শুরার আকাবীর হজরত মাওঃ ইব্রাহীম দেওলা সাহেব দাঃবাঃ পুরাতন সাথীদের ৫ দিনের জোড়। দিয়াবাড়ী উত্তরা, ঢাকা।
ইসলামের পরিভাষায় তাবলীগ বলতে আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে আল্লাহর দ্বীন ও শরিয়তের বিধি-বিধান প্রচারের কাজকে বোঝায়। দাওয়াত ও তাবলীগের মাধ্যমে আল্লাহর দ্বীন তথা ইসলাম আল্লাহর জমিনে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে যুগে যুগে। আর এ কাজের জন্যে মহান আল্লাহ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানুষগুলোকে বেছে নিয়েছেন। নবী-রাসূলদের মূলতঃ দাওয়াত ও তাবলীগের কাজ দিয়ে দুনিয়ায় পাঠানো হয়েছিল। সে মতে মানব সভ্যতার সূচনালগ্ন থেকে মানবসমাজে দাওয়াত ও তাবলীগের কাজ চলে আসছে।
হজরত আদম (আ.) ছিলেন পৃথিবীর প্রথম মানুষ এবং প্রথম নবী। সুতরাং এটাই বাস্তবতা যে, দ্বীনের দাঈর (আল্লাহর পথে আহবানকারী) আগমনের মাধ্যমে পৃথিবীতে মানবসভ্যতার সূচনা। নবী ও রাসূলদের একমাত্র তাবলিগের দায়িত্ব দিয়ে পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছিল এ বিষয়টি আল্লাহতায়ালা কোরআনে কারিমের বিভিন্ন আয়াতে বিভিন্ন ভঙ্গিতে বিবৃত করেছেন। এ প্রসঙ্গে ইরশাদ হয়েছে,
مَا عَلَی الرَّسُوۡلِ اِلَّا الۡبَلٰغُ ؕ وَ اللّٰهُ یَعۡلَمُ مَا تُبۡدُوۡنَ وَ مَا تَکۡتُمُوۡنَ ﴿۹۹﴾
‘রাসূলের একমাত্র দায়িত্ব হলো (আল্লাহর দ্বীন মানুষের মাঝে) প্রচার করা। আর তোমরা যা প্রকাশ করো আর যা গোপন করো সবই আল্লাহ জানেন।’-সূরা আল মায়িদা: ৯৯
কোরআনে কারিমে আরও ইরশাদ হয়েছে,
وَ مَاۤ اَرۡسَلۡنَا مِنۡ رَّسُوۡلٍ اِلَّا بِلِسَانِ قَوۡمِهٖ لِیُبَیِّنَ لَهُمۡ ؕ فَیُضِلُّ اللّٰهُ مَنۡ یَّشَآءُ وَ یَهۡدِیۡ مَنۡ یَّشَآءُ ؕ وَ هُوَ الۡعَزِیۡزُ الۡحَکِیۡمُ ﴿۴﴾
‘আমি প্রত্যেক রাসূলকে তার স্বজাতির ভাষাভাষী করে পাঠিয়েছি, যাতে তাদের নিকট পরিষ্কারভাবে (দ্বীনের কথা) ব্যাখ্যা করতে পারে।’-সূরা ইবরাহিম: ৪
দাওয়াত ও তাবলীগের কাজ না করাকে আল্লাহ নবুওয়ত ও রিসালাতের অযোগ্যতা হিসেবে আখ্যায়িত করে ইরশাদ করেছেন,
یٰۤاَیُّهَا الرَّسُوۡلُ بَلِّغۡ مَاۤ اُنۡزِلَ اِلَیۡکَ مِنۡ رَّبِّکَ ؕ وَ اِنۡ لَّمۡ تَفۡعَلۡ فَمَا بَلَّغۡتَ رِسَالَتَهٗ ؕ وَ اللّٰهُ یَعۡصِمُکَ مِنَ النَّاسِ ؕ اِنَّ اللّٰهَ لَا یَهۡدِی الۡقَوۡمَ الۡکٰفِرِیۡنَ ﴿۶۷﴾
‘হে রাসূল! আপনার প্রতি আপনার রবের পক্ষ থেকে যা অবতীর্ণ হয়েছে তা প্রচার করুন! যদি আপনি তা না করেন, তাহলে আপনি তার বার্তা প্রচার করলে না।’-সূরা আল মায়িদা: ৬৭
যেহেতু দাঈর মাধ্যমে পৃথিবীতে মানব সভ্যতার সূচনা সুতরাং পৃথিবীটা দাঈ শূন্য হলেই কিয়ামত কায়েম হবে। এ বিষয়ে হযরত শাকিক (رضي الله عنه) একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমি হযরত আবদুল্লাহ (رضي الله عنه) ও হযরত আবু মুসা (رضي الله عنه)-এর সঙ্গে একত্রে বসেছিলাম। এমন সময় তারা উভয়ে বললেন, নবী করীম (ﷺ) বলেছেন, নিশ্চয়ই কিয়ামতের আগে এমন সময় আসবে যখন ইলম উঠিয়ে নেওয়া হবে এবং মূর্খতা ছড়িয়ে পড়বে। আর সে সময়ে হারজ ব্যাপক হবে। হারজ হলো- হত্যাকাণ্ড। -সহিহ বোখারি: ৬৭৮৬
হযরত মুহাম্মদ (ﷺ)-এর মাধ্যমে নবুওয়ত ও রিসালাতের সমাপ্তি ঘটলেও তাবলীগে দ্বীনের কাজ সমাপ্ত হয়নি আজও সেটা অব্যহত থাকবে কিয়ামত অবধি। হযরত রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর উম্মতকে দেওয়া হয়েছে দাঈর মহান দায়িত্ব। যেমন আল্লাহতায়ালা এ সম্পর্কে ইরশাদ করেছেন,
قُلۡ هٰذِهٖ سَبِیۡلِیۡۤ اَدۡعُوۡۤا اِلَی اللّٰهِ ۟ؔ عَلٰی بَصِیۡرَۃٍ اَنَا وَ مَنِ اتَّبَعَنِیۡ ؕ وَ سُبۡحٰنَ اللّٰهِ وَ مَاۤ اَنَا مِنَ الۡمُشۡرِکِیۡنَ ﴿۱۰۸﴾
‘বল, এটাই আমার পথ; আমি সজ্ঞানে মানুষকে আল্লাহর দিকে আহবান করি আমি এবং আমার অনুসারীগণ।’-সূরা ইউসুফ: ১০৮
যেহেতু দ্বীনের দাওয়াতের কাজ না থাকলে পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে তাই হযরত রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইন্তেকালের আগে দাওয়াতের দায়িত্ব স্বীয় উম্মতের ওপর অর্পণ করে গেছেন। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (رضي الله عنه) একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন হযরত রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ‘আমার পক্ষ থেকে দ্বীনের একটি কথা হলেও পৌঁছে দাও।’ -সহিহ বোখারি: ৪৪১৮
দাঈর মধ্যে যে গুণাবলি থাকা আবশ্যক সেগুলো হলো-
ওহির জ্ঞানের অনুসারী হওয়া: দাঈকে অবশ্যই ওহির জ্ঞানের অনুসারী হতে হবে এবং দাওয়াতের একমাত্র ভিত্তি হতে হবে ওহি তথা কোরআন ও সুন্নাহ। যেমন হযরত রাসূলুল্লাহকে (ﷺ) সম্মোধন করে মহান আল্লাহর নির্দেশ,
ওহির জ্ঞানের অনুসারী হওয়া: দাঈকে অবশ্যই ওহির জ্ঞানের অনুসারী হতে হবে এবং দাওয়াতের একমাত্র ভিত্তি হতে হবে ওহি তথা কোরআন ও সুন্নাহ। যেমন হযরত রাসূলুল্লাহকে (ﷺ) সম্মোধন করে মহান আল্লাহর নির্দেশ,
وَ اتَّبِعۡ مَا یُوۡحٰۤی اِلَیۡکَ وَ اصۡبِرۡ حَتّٰی یَحۡکُمَ اللّٰهُ ۚۖ وَ هُوَ خَیۡرُ الۡحٰکِمِیۡنَ ﴿۱۰۹﴾
‘আপনার ওপর যে ওহি নাজিল করা হয়েছে আপনি তার অনুসরণ করুন আর আপনি ধৈর্যধারণ করুন যে পর্যন্ত না আল্লাহ ফায়সালা করেন আর আল্লাহই সর্বোত্তম ফায়সালকারী।’-সূরা ইউনুস: ১০৯
প্রজ্ঞা: দাঈকে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সত্য প্রতিষ্ঠিত করার মতো প্রজ্ঞা এবং প্রমাণ ও যুক্তি যথাযথভাবে উপস্থাপনে বিজ্ঞ হতে হবে। ইরশাদ হয়েছে,
اُدْعُ اِلٰى سَبِیْلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَ الْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ وَ جَادِلْهُمْ بِالَّتِیْ هِیَ اَحْسَنُؕ-اِنَّ رَبَّكَ هُوَ اَعْلَمُ بِمَنْ ضَلَّ عَنْ سَبِیْلِهٖ وَ هُوَ اَعْلَمُ بِالْمُهْتَدِیْنَ(۱۲۵)
‘তোমার রবের পথে মানুষকে আহবান করো প্রজ্ঞা ও সদুপদেশের মাধ্যমে আর প্রয়োজনে তাদের সঙ্গে বিতর্ক করো উত্তম পন্থায়। তোমার রব জানেন তার পথ থেকে কে বিচ্যুত হয়ে গেছে আর তিনি জানেন হেদায়েতপ্রাপ্তদের সম্পর্কে।’-সূরা আন নাহল: ১২৫
ইখলাস: দাঈকে পার্থিব মোহমুক্ত হতে হবে। সে মানুষকে দ্বীনের দিকে আহবান করবে, দ্বীনের কথা প্রচার করবে ইখলাসের সঙ্গে। কোনো প্রকার পার্থিব মোহ তার মধ্যে থাকবে না। কোরআনে কারিমে এ প্রসঙ্গে ইরশাদ হয়েছে,
قُلۡ مَاۤ اَسۡـَٔلُکُمۡ عَلَیۡهِ مِنۡ اَجۡرٍ اِلَّا مَنۡ شَآءَ اَنۡ یَّتَّخِذَ اِلٰی رَبِّهٖ سَبِیۡلًا ﴿۵۷﴾
‘বল, আমি এ জন্যে তোমাদের থেকে এটা ছাড়া অন্যকোনো প্রতিদান চাই না যে, যার ইচ্ছা সে তার রবের পথ অবলম্বন করুক।’ -সূরা আল ফোরকান: ৫৭
আল্লাহর ওপর ভরসাকারী: দাঈকে জীবনের সর্ববস্থায় একমাত্র আল্লাহর ওপর ভরসা করতে হবে। যেমন আল্লাহতায়ালা নবী করিমকে (ﷺ) এ বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছেন,
فَاِنۡ تَوَلَّوۡا فَقُلۡ حَسۡبِیَ اللّٰهُ ۫٭ۖ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ ؕ عَلَیۡهِ تَوَکَّلۡتُ وَ هُوَ رَبُّ الۡعَرۡشِ الۡعَظِیۡمِ ﴿۱۲۹﴾
‘অতঃপর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তাহলে তুমি বলো, আমার জন্যে আল্লাহই যথেষ্ট, তিনি ছাড়া অন্যকোনো ইলাহ নাই। আমি একমাত্র তার ওপরই নির্ভর করি আর তিনি মহান আরশের অধিপতি।’-সূরা আত তওবা: ১২৯
তাকওয়া: দাঈকে মুত্তাকি-পরহেজগার হতে হবে। পূর্ণমাত্রায় তাকওয়া তথা খোদাভীরুতা নিয়ে দাওয়াতের কাজ করতে হবে। ফাসেক-ফুজ্জারকে অনুসরণ করা যাবে না। এ বিষয়ে কোরআনে কারিমে ইরশাদ হচ্ছে,
یٰۤاَیُّهَا النَّبِیُّ اتَّقِ اللّٰهَ وَ لَا تُطِعِ الۡکٰفِرِیۡنَ وَ الۡمُنٰفِقِیۡنَ ؕ اِنَّ اللّٰهَ کَانَ عَلِیۡمًا حَکِیۡمًا ۙ﴿۱﴾
‘হে নবী! আল্লাহকে ভয় করুন আর কাফের ও মুনাফেকদেরকে অনুসরণ করবেন না। আল্লাহ তো সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।’-সূরা আল আহযাব: ১
ধৈর্য: দাঈকে হতে হবে অত্যন্ত ধৈর্যশীল। বিরুদ্ধবাদিদের অবজ্ঞা-উপেক্ষা, অত্যাচার-নির্যাতন সহ্যকরে দ্বীন প্রচারের মহৎ কাজ চালিয়ে যেতে হবে নিঃসংকোচে। আল্লাহতায়ালা আলোচ্য বিষয়ে স্বীয় হাবিবকে (সা.) কে ধমকের সুরে বলেছেন,
وَ اِنۡ کَانَ کَبُرَ عَلَیۡکَ اِعۡرَاضُهُمۡ فَاِنِ اسۡتَطَعۡتَ اَنۡ تَبۡتَغِیَ نَفَقًا فِی الۡاَرۡضِ اَوۡ سُلَّمًا فِی السَّمَآءِ فَتَاۡتِیَهُمۡ بِاٰیَۃٍ ؕ وَ لَوۡ شَآءَ اللّٰهُ لَجَمَعَهُمۡ عَلَی الۡهُدٰی فَلَا تَکُوۡنَنَّ مِنَ الۡجٰهِلِیۡنَ ﴿۳۵﴾
‘যদি তাদের উপেক্ষা তোমার কাছে দুর্বিসহ হয়, তাহলে পারলে জমিনে কোনো সুঢ়ঙ্গ খুঁজে নাও অথবা আকাশে কোন সিঁড়ি, তারপর তাদের কাছে কোনো মুজিযা নিয়ে এসো। যদি আল্লাহ ইচ্ছা করতেন, তাহলে অবশ্যই তাদের সবাইকে হেদায়েতের ওপর একত্রিত করতেন। সুতরাং তুমি জাহেলদের অর্ন্তভূক্ত হবে না।’ -সূরা আল আনআম: ৩৫
উম্মতের মঙ্গলকামী: সাধারণ মানুষকে হৃদয়ের গভীর থেকে ভালোবাসতে হবে এবং সর্বদা তাদের মঙ্গল কামনা করতে হবে। যেমন আল্লাহ বলছেন,
لَقَدۡ جَآءَکُمۡ رَسُوۡلٌ مِّنۡ اَنۡفُسِکُمۡ عَزِیۡزٌ عَلَیۡهِ مَا عَنِتُّمۡ حَرِیۡصٌ عَلَیۡکُمۡ بِالۡمُؤۡمِنِیۡنَ رَءُوۡفٌ رَّحِیۡمٌ ﴿۱۲۸﴾
‘নিশ্চয়ই তোমাদের নিকট তোমাদের মধ্য থেকে একজন রাসূল এসেছে। তোমাদেরকে যেসব বিষয় বিপন্ন করে সেগুলো তার জন্য কষ্টদায়ক। সে তোমাদের মঙ্গলকামী, মুমিনদের প্রতি সে দয়াদ্র ও পরম দয়ালু।’-সূরা আত তওবা: ১২৮
পরস্পর সাহায্যকারী: দ্বীনের দাঈদেরকে অবশ্যই পরস্পরের সমর্থক ও সাহায্যকারী হতে হবে। যেমন কোরআনে কারিমে ইরশাদ হচ্ছে,
وَ اِذۡ اَخَذَ اللّٰهُ مِیۡثَاقَ النَّبِیّٖنَ لَمَاۤ اٰتَیۡتُکُمۡ مِّنۡ کِتٰبٍ وَّ حِکۡمَۃٍ ثُمَّ جَآءَکُمۡ رَسُوۡلٌ مُّصَدِّقٌ لِّمَا مَعَکُمۡ لَتُؤۡمِنُنَّ بِهٖ وَ لَتَنۡصُرُنَّهٗ ؕ قَالَ ءَاَقۡرَرۡتُمۡ وَ اَخَذۡتُمۡ عَلٰی ذٰلِکُمۡ اِصۡرِیۡ ؕ قَالُوۡۤا اَقۡرَرۡنَا ؕ قَالَ فَاشۡهَدُوۡا وَ اَنَا مَعَکُمۡ مِّنَ الشّٰهِدِیۡنَ ﴿۸۱﴾
‘স্মরণ করো, যখন আল্লাহ নবীদের থেকে এই মর্মে অঙ্গীকার নিয়েছিলেন যে, তোমাদেরকে আমি কিতাব ও হেকমত যা কিছু দিয়েছি, অতঃপর তোমাদের কাছে যা আছে তার সত্যায়নকারীরূপে যখন একজন রাসূল আসবে, তখন অবশ্যই তোমরা তার ওপর ঈমান আনবে এবং তাকে সাহায্য করবে। -সূরা আলে ইমরান: ৮১
সুভাষী: দ্বীনের দাঈকে অবশ্যই সুন্দর ভাষা ও আকর্ষণীয় বাচনভঙ্গীর অধিকারী হতে হবে। কোরআনে বলা হয়েছে,
وَ مَنۡ اَحۡسَنُ قَوۡلًا مِّمَّنۡ دَعَاۤ اِلَی اللّٰهِ وَ عَمِلَ صَالِحًا وَّ قَالَ اِنَّنِیۡ مِنَ الۡمُسۡلِمِیۡنَ ﴿۳۳﴾
‘ঐ লোকের কথার চেয়ে দামি কথা আর কার হতে পারে যে মানুষকে আল্লাহর দিকে ডাকে, সৎকাজ করে আর বলে, আমি মুসলমানদের একজন।’ –হা-মীম আস-সাজদা: ৩৩
বস্তুত দাওয়াতের মাধ্যমে পৃথিবীতে আল্লাহতায়ালা দ্বীন প্রচারিত ও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যুগে যুগে। বস্তুত দাওয়াতের বিষয়বস্তুর মাহাত্ম্য এবং দাঈর গুণাবলি মানুষকে দলে দলে দ্বীনের পথে টেনে এনেছে। কিন্তু আজ দাওয়াতের কাজের ব্যাপকতা অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি হলেও মানুষ দ্বীনের প্রতি ততটা আকৃষ্ট হচ্ছে না, বরং ভীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়ছে। ওয়াজ, বক্তৃতা ও লিখনি ইত্যাদি মাধ্যমে চলছে তাবলীগের কাজ, কিন্তু দাঈ গুণসম্পন্ন না হওয়ায় দাওয়াতের বিষয়বস্তু একই হলেও মানুষ দ্বীনের ব্যাপারে বিভ্রান্তিতে পড়ছে- যা উম্মতের জন্যে অত্যন্ত বেদনাদায়ক।
আল্লাহতায়ালা উম্মতের সবাইকে উন্নত গুণসম্পন্ন দাঈ হিসেবে কবুল করুন। আমিন।
__________________________________
লেখক:
লেখক:
মোহাম্মদ মাকছুদ উল্লাহ
ইমাম ও খতিব,
ইমাম ও খতিব,
রাজশাহী কলেজ কেন্দ্রীয় মসজিদ।

Comments
Post a Comment