Skip to main content

Featured Post

ওলামা মাশায়েখদের খাস মজলিস। শেখ ইব্রাহীম দেওলা সাহেব (দাঃবাঃ)ভারত । ২০২৩। পুরাতন সাথীদের জোড় ২০২৩

ওলামা মাশায়েখদের উদ্দেশ্যে বয়ান আলামী শুরার আকাবীর হজরত মাওঃ ইব্রাহীম দেওলা সাহেব দাঃবাঃ পুরাতন সাথীদের ৫ দিনের জোড়। দিয়াবাড়ী উত্তরা, ঢাকা।

জান্নাতী সুখী পরিবারের জীবনালেখ্য

জান্নাতের সার্টিফিকেট প্রাপ্ত সাহাবী

হযরত তালহা ইবনে উবাইদিল্লাহ (رضي الله عنه)

প্রতিদিন নবীজীর পেছনে ফজরের নামাজ পড়েন। কিন্তু নামাজে সালাম ফিরানোর সাথে সাথে তিনি মসজিদে না বসে তাড়াতাড়ি বাড়ি চলে যান।

এভাবে কয়েকদিন চলার পর অন্যান্য সাহাবিরা এটা নিয়ে আলোচনা শুরু করলেন যে, প্রতিদিন সালাম ফিরিয়েই তালহা চলে যান।

অথচ নবীজী ফজরের পর সূর্য উদয় না হওয়া পর্যন্ত মসজিদে ই বিভিন্ন আ'মালে থাকেন। অন্যান্য সব সাহাবিরাও রাসূলের কাছে বসে থাকেন। এক পর্যায়ে এই কথা নবীজীর কানে পৌঁছালো।

নবীজী সাহাবিদের বললেন:-আগামিকাল ফজরের নামাজ শেষে তালহা যেন আমার সাথে দেখা করে।

পরের দিন নামাজে আসলে তালহাকে (رضي الله عنه) একথা জানিয়ে দেয়া হল। ফজরের নামাজ শেষ। তালহা (رضي الله عنه) বসে আছেন নবীজীর সাথে দেখা করার জন্য।

এক পর্যায়ে নবীজী তালহাকে ডাকলেন।

নবীজী অতি মোলায়েম কন্ঠে তালহাকে বললেন,তালহা! আমি কি তোমাকে কোন কষ্ট দিয়েছি..?

আমি কি তোমার কোন হক নষ্ট করেছি..?

একথা শুনে তালহা কেদে ফেললেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রাসুল আমার জীবন আপনার জন্য উৎসর্গ হোক। আপনি আমার কোন হক নষ্ট করেননি। নবীজী বললেন,তাহলে তালহা ! তুমি প্রতিদিন নামাজ শেষে আমার কাছে না বসে চলে যাও কেন..?

তালহা কেদে কেদে বললেন, ইয়া  রাসুলুল্লাহ আমার এবং আমার স্ত্রীর সতর ঢাকার জন্য একটি মাত্র জামা আছে। যেটা পরে আমি যখন নামাজ পড়ি আমার স্ত্রী তখন বিবস্ত্র থাকেন।

স্ত্রী যখন নামাজ পড়েন আমি তখন বিবস্ত্র থাকি। এক্ষেত্রে ফজরের নামাজের সময় একটু অসুবিধা হয়ে যায় হে আল্লাহর রাসুল ফজরের নামাজে আসার সময় আমি আমার স্ত্রীকে একটা গর্তের মধ্যে রেখে আসি। এমতাবস্থায় আমি যদি নামাজ শেষে এখানে বসে থাকি তাহলে তো আমার স্ত্রীর নামাজটা কাজা হয়ে যাবে হে আল্লাহর রাসূল । এজন্য আমি নামাজ শেষে দৌড়ে চলে যাই।

তালহার কথা শুনে আল্লাহর রাসুল ডুকরে কাঁদলেন ।

নবীজীর দাড়ি বেয়ে বেয়ে চোখের পানি ঝরছিল।

সাথে সাথে নবীজী তালহাকে জানিয়ে দিলেন, হে তালহা !

নিশ্চয়ই তুমি জান্নাতে যাবে।

আল্লাহু আকবার সুবহান আল্লাহ্

(মুসনাদে আহমদ)

দেখুন একটা মাত্র পোশাক ছিল

তালহা (رضي الله عنه) এবং তার স্ত্রীর তারপরও আল্লাহর প্রতি কোন অভিযোগ ছিল না,

এবাদতের প্রতি কোন অজুহাত ছিলো না

আর আমাদের কত অভিযোগ কত অজুহাত আল্লাহর প্রতি।

আল্লাহ্ মাফ করুন।

#বয়ান_থেকে_কাটপিস

🎥 #বয়ান_থেকে_নসিহত

#জান্নাতী_সুখী_পরিবারের_জীবনালেখ্য

Comments

Popular posts from this blog

দাওয়াত ও তাবলীগের সংকটের নেপথ্যে-মাওলানা সাদ সাহেবের দলীলবিহীন গায়বী কথা বলা ও বিদআত আবিষ্কার করা

মাওলানা আব্দুল মালেক সাহেব (দাঃবাঃ) ।। আপনারা জানেন, দ্বীনের বিষয়ে কেউ কোনো কথা বলতে হলে দলীলভিত্তিক বলতে হয়। আন্দাযে কথা বলা, ধারণাভিত্তিক কথা বলা, অনুমান করে কথা বলা জায়েয নেই। গায়বী কথা, যেটা জানার সূত্র হল একমাত্র অহী। আল্লাহ তাআলা নবীদেরকে অহীর মাধ্যমে অনেক গায়বী কথা জানিয়েছেন। এখন তো অহী বাকি নেই। তাহলে এখন যদি গায়বী কথা বলে, সেটা অনুমান ভিত্তিক হবে না? মাওলানা সা‘দ সাহেবের বড় এক মসীবত হল গায়বী কথা বলা, গায়বী কথা মানেই তো দলীলবিহীন কথা। গায়বী কথা মানেই তো যার কোনো দলীল নেই। যে গায়বী বিষয়গুলোর আলোচনা কুরআন-হাদীসে এসে গেছে সেগুলো তো কুরআন-হাদীসে আছেই এবং সেগুলো অহীর মাধ্যমে এসেছে। কিন্তু এর বাইরে তিনি অনেক গায়বী এবং আন্দাযে কথা বলেন। এটা ছোট ভুল না বড় ভুল? বড় ভুল। এটা কি সগীরা গোনাহ না কবীরা গোনাহ? কবীরা গোনাহ। মাওলানা সা‘দ সাহেবের বড় মসীবত এবং একটি বড় ভুল হল এই গায়বী কথা বলা। ২. মাওলানা সা‘দ সাহেবের আরেকটি বড় ভুল হল, তিনি #দলীল_পরিপন্থী এমন অনেক #গলত_মাসআলা এবং #গলত_মতবাদ_আবিষ্কার করতে থাকেন, কোনো সাহাবী, কোনো তাবিয়ী এবং কোনো মুজতাহিদ এমন কথা বলেননি; বরং তা সম্পূর্ণ তার নিজের আবি...

সরেজমিন : ফিরে দেখা ১ ডিসেম্বর, কী ঘটেছিল সেদিন

সরেজমিন : ফিরে দেখা ১ ডিসেম্বর, কী ঘটেছিল সেদিন [এ লেখাটির প্রধান উদ্দেশ্য ইতিহাস সংরক্ষণে অংশগ্রহণ। কারণ ইতিহাসের যথাযথ সংরক্ষণ- এটি প্রতিটি প্রজন্মের উপর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের হক। আরেকটি উদ্দেশ্য হল, এতাআতী ভাইদের হেদায়েত কামনা। হয়ত এটা পড়ে তাদের কারো বোধ জাগবে, অন্তরে আল্লাহর ভয় সৃষ্টি হবে এবং সঠিক রাস্তায় ফিরে আসবে। হেদায়েত আল্লাহর হাতে, তিনিই তাওফীক দেওয়ার মালিক। আর যাদের মজলুমিয়াতের কিছুটা বিবরণ এই লেখায় উঠে এসেছে তাদের জন্য এটা ইহসান ও ইহতিসাবের সিফাত যিন্দা করার যরীআ হতে পারে। আল্লাহ তাদেরকে নিজের হেফাযতে রাখুন। এমন কথা ও কাজ থেকে বাঁচার তাওফীক দান করুন, যা মজলুমিয়াতের ফায়দা ও বরকত নষ্ট করে দেয় বা কমিয়ে দেয়। আশা করি, তারা পূর্বের মতো وَ لْیَعْفُوْا وَ لْیَصْفَحُوْا اَلَا تُحِبُّوْنَ اَنْ یَّغْفِرَ اللهُ لَكُمْ (তারা যেন ওদেরকে ক্ষমা করে এবং ওদের দোষ-ত্রুটি উপেক্ষা করে। তোমরা কি চাও না, আল্লাহ তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিন? -সূরা নূর (২৪) : ২২) -এর উপর আমল জারি রাখবেন। -তত্ত্বাবধায়ক]  - মাসউদুয যামান শহীদ ১ ডিসেম্বর ২০১৮।  মনে পড়ে যায় টঙ্গীর ইজতিমা ময়দানের সেই লোমহর্ষক কাহিনী, ...

ওলামা মাশায়েখদের খাস মজলিস। শেখ ইব্রাহীম দেওলা সাহেব (দাঃবাঃ)ভারত । ২০২৩। পুরাতন সাথীদের জোড় ২০২৩

ওলামা মাশায়েখদের উদ্দেশ্যে বয়ান আলামী শুরার আকাবীর হজরত মাওঃ ইব্রাহীম দেওলা সাহেব দাঃবাঃ পুরাতন সাথীদের ৫ দিনের জোড়। দিয়াবাড়ী উত্তরা, ঢাকা।