Skip to main content

Featured Post

ওলামা মাশায়েখদের খাস মজলিস। শেখ ইব্রাহীম দেওলা সাহেব (দাঃবাঃ)ভারত । ২০২৩। পুরাতন সাথীদের জোড় ২০২৩

ওলামা মাশায়েখদের উদ্দেশ্যে বয়ান আলামী শুরার আকাবীর হজরত মাওঃ ইব্রাহীম দেওলা সাহেব দাঃবাঃ পুরাতন সাথীদের ৫ দিনের জোড়। দিয়াবাড়ী উত্তরা, ঢাকা।

জালেম কো জুলুম কারনে দো, জুলুম হি উসকো লেকে ডুবায়ে গা- Julumer Voiabohota

জালেম কো জুলুম কারনে দো, জুলুম হি উসকো লেকে ডুবায়ে গা

শুধু মৌলিক (ফরজ) ইবাদত পালনের নামই ইসলাম নয়। বরং এর সাথে আরো অনেক আনুষঙ্গিক ইবাদত, ধর্মীয় আচার-আচরণ, রীতিনীতি ও বান্দার সাথে সম্পর্কিত বিভিন্ন অধিকার জড়িত রয়েছে। কেউ যেন তার অপর ভাই দ্বারা শারীরিক, মানসিক, অর্থনৈতিক বা অন্য যেকোনো উপায়ে আঘাতপ্রাপ্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এ ব্যাপারে ইসলাম কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে।

মানবতার মুক্তির দিশারী প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ বলেছেন,

‘যে ব্যক্তি অন্যের ক্ষতি করবে, আল্লাহ তার ক্ষতি করবেন (ইবনে মাজাহ-২৩৪২)।

অন্য হাদিসে রাসূল বলেছেন,

‘যে ব্যক্তি কোনো মুসলমানের ক্ষতি করল অথবা তাকে ধোঁকা দিলো সে অভিশপ্ত (সুনানে তিরমিজি১/৯৪১)।

ইসলামে এ ধরনের কাজ বা আচরণকে ‘জুলুম বলা হয়। আর যারা এমন কাজ করে বেড়ায় তাদের বলা হয় জালিম বা অত্যাচারী। জুলুমকারীর পরিণাম অত্যন্ত ভয়াবহ। জালিমকে আল্লাহ বরদাশত করেন না। অন্যের ওপর জুলুম, নির্যাতন করে জালিমরা তাদের ধ্বংস ডেকে আনে। আপদ-বিপদ, দুর্যোগ-বিশৃঙ্খলায় আক্রান্ত হওয়ার অন্যতম একটি কারণ হলো জুলুম।

কুরআনের ঘোষণা,

بِسْمِ اللّهِ الرَّحْمـَنِ الرَّحِيمِ

শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।

وَ لَقَدۡ اَهۡلَکۡنَا الۡقُرُوۡنَ مِنۡ قَبۡلِکُمۡ لَمَّا ظَلَمُوۡا ۙ وَ جَآءَتۡهُمۡ رُسُلُهُمۡ بِالۡبَیِّنٰتِ وَ مَا کَانُوۡا لِیُؤۡمِنُوۡا ؕ کَذٰلِکَ نَجۡزِی الۡقَوۡمَ الۡمُجۡرِمِیۡنَ ﴿۱۳﴾

‘অবশ্যই আমি তোমাদের আগে বহু জাতিকে ধ্বংস করে দিয়েছি যখন তারা জুলুমে লিপ্ত ছিল (সূরা ইউনুস-১৩)।

রাসূলুল্লাহ বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা অত্যাচারীকে অবকাশ দিয়ে থাকেন। অবশেষে তাকে এমনভাবে পাকড়াও করেন যে, সে আর ছুটে যেতে পারে না (বায়হাকি-৬/৯৪; বুখারি-৪৬৮৬; মুসলিম-২৫৮৩)।

বর্তমানে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে জুলুমের মারাত্মক ছড়াছড়ি। জালিমের অত্যাচারে দুর্বল, অসহায়, পীড়িতরা নির্যাতিত; জনজীবন অতিষ্ঠ। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের বিত্তবানরা দরিদ্র শ্রেণীকে, ক্ষমতাবানরা নিরীহ ও সাধারণ লোকের প্রতি অন্যায় ও হিংসার বশবর্তী হয়ে শোষণ, নির্যাতন ও নিপীড়নের স্টিমরোলার চালিয়ে যাচ্ছে। এহেন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ তাদের নায্য অধিকার, ন্যায়বিচার, সমতা, বাক-স্বাধীনতা ইত্যাদি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, আত্মসম্মান ক্ষুণœ করা হচ্ছে। অথচ ইসলাম জুলুমের মতো অন্যায় ও সমাজবিধ্বংসী কাজকে মূলোৎপাটনে জোর তাগিদ দিয়ে আসছে।

জুলুম করা কে আল্লাহ তার নিজের ওপর হারাম করেছেন।

হাদিসে কুদসিতে এসেছে,

আল্লাহ বলেন, ‘হে আমার বান্দা! আমি নিজের ওপর জুলুম হারাম করেছি এবং তোমাদের জন্যও তা হারাম করেছি। অতএব তোমরা একে আন্যের ওপর জুলুম করো না (মুসলিম-৬৭৩৭)।

হাদিস থেকে বোঝা যায়, জুলুমকারী প্রতিনিয়ত হারাম কাজ করে যাচ্ছে আর আশপাশে থাকা নীরবতা পালনকারী লোকেরা একটি হারাম কাজকে সমর্থন করে যাচ্ছে।

ইসলামের সুমহান বাণী হচ্ছে,

وَ لَا تَحۡسَبَنَّ اللّٰهَ غَافِلًا عَمَّا یَعۡمَلُ الظّٰلِمُوۡنَ ۬ؕ اِنَّمَا یُؤَخِّرُهُمۡ لِیَوۡمٍ تَشۡخَصُ فِیۡهِ الۡاَبۡصَارُ ﴿ۙ۴۲﴾

‘জুলুমকারী বা ক্ষমতার অপব্যবহারকারীদের সম্পর্কে তুমি কখনো মহান আল্লাহকে উদাসীন মনে করবে না (সূরা ইবরাহিম-৪২)।

জালিমকে তার জুলুম থেকে প্রতিহত করার ব্যাপারে রাসূল কঠোর ভাষা ব্যবহার করেছেন, ‘মানুষ যদি কোনো অত্যাচারীকে অত্যাচারে লিপ্ত দেখেও তার দুহাত চেপে ধরে তাকে প্রতিহত না করে তবে আল্লাহ তায়ালা শিগগিরই তাদের সবাইকে তাঁর ব্যাপক শাস্তিতে নিক্ষিপ্ত করবেন (সুনানে তিরমিজি-২১৬৮)।

হজরত ওমর (رحمة الله عليه) বলেছেন, ‘জালেমকে ক্ষমা করা মাজলুমের ওপর জুলুম করার শামিল। স্পষ্ট বোঝা যায়, সম্মিলিতভাবে, ঐক্যবদ্ধ হয়ে জালিমকে প্রতিহত করে মাজলুমকে রক্ষা করা সমাজে বসবাসকারী প্রতিটি মানুষের অন্যতম দায়িত্ব।

পবিত্র কুরআনের অসংখ্য আয়াতে আল্লাহ তায়ালা জালিমের ব্যাপারে মানবজাতিকে সতর্ক করেছেন।

এরশাদ হয়েছে,

اِلَّا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَ عَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ وَ ذَکَرُوا اللّٰهَ کَثِیۡرًا وَّ انۡتَصَرُوۡا مِنۡۢ بَعۡدِ مَا ظُلِمُوۡا ؕ وَ سَیَعۡلَمُ الَّذِیۡنَ ظَلَمُوۡۤا اَیَّ مُنۡقَلَبٍ یَّنۡقَلِبُوۡنَ ﴿۲۲۷﴾

‘অচিরেই জালিমরা জানতে পারবে, তাদের প্রত্যাবর্তনস্থল কোথায় হবে (সূরা শুয়ারা-২২৭)।

অন্যত্র বলা হয়েছে,

قُلۡ اِنِّیۡ عَلٰی بَیِّنَۃٍ مِّنۡ رَّبِّیۡ وَ کَذَّبۡتُمۡ بِهٖ ؕ مَا عِنۡدِیۡ مَا تَسۡتَعۡجِلُوۡنَ بِهٖ ؕ اِنِ الۡحُکۡمُ اِلَّا لِلّٰهِ ؕ یَقُصُّ الۡحَقَّ وَ هُوَ خَیۡرُ الۡفٰصِلِیۡنَ ﴿۵۷﴾

‘জালিমরা কখনো সফলকাম হয় না (সূরা আনআম-৫৭)।

জালিমদের পরিণতি সম্পর্কে আল্লাহ বলেন,

اِنَّمَا السَّبِیۡلُ عَلَی الَّذِیۡنَ یَظۡلِمُوۡنَ النَّاسَ وَ یَبۡغُوۡنَ فِی الۡاَرۡضِ بِغَیۡرِ الۡحَقِّ ؕ اُولٰٓئِکَ لَهُمۡ عَذَابٌ اَلِیۡمٌ ﴿۴۲﴾

‘অভিযোগ শুধু তাদের বিরুদ্ধে, যারা মানুষের ওপর অত্যাচার চালায় এবং পৃথিবীতে অন্যায়ভাবে বিদ্রোহ করে বেড়ায়। তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাধায়ক শাস্তি (সূরা আশ-শূরা-৪২)।

জালিমের বিরুদ্ধে আল্লাহর অবস্থান কঠোর। জালিমের বিরুদ্ধে যুদ্ধাভিযান চালাতে ও তাদের মোকাবেলায় প্রস্তুতি থাকতে বলেছেন।

কুরআনের ঘোষণা,

وَ اَعِدُّوۡا لَهُمۡ مَّا اسۡتَطَعۡتُمۡ مِّنۡ قُوَّۃٍ وَّ مِنۡ رِّبَاطِ الۡخَیۡلِ تُرۡهِبُوۡنَ بِهٖ عَدُوَّ اللّٰهِ وَ عَدُوَّکُمۡ وَ اٰخَرِیۡنَ مِنۡ دُوۡنِهِمۡ ۚ لَا تَعۡلَمُوۡنَهُمۡ ۚ اَللّٰهُ یَعۡلَمُهُمۡ ؕ وَ مَا تُنۡفِقُوۡا مِنۡ شَیۡءٍ فِیۡ سَبِیۡلِ اللّٰهِ یُوَفَّ اِلَیۡکُمۡ وَ اَنۡتُمۡ لَا تُظۡلَمُوۡنَ ﴿۶۰﴾

 ‘তোমরা জালিম সম্প্রদায়ের মোকাবেলায় তোমাদের সাধ্যানুযায়ী প্রস্তুতি গ্রহণ করো (সূরা আনফাল-৬০)।

অন্যত্র বলা হয়েছে,

اَلَا لَعۡنَۃُ اللّٰهِ عَلَی الظّٰلِمِیۡنَ ﴿ۙ۱۸﴾

‘সাবধান! জালিমের ওপর আল্লাহর অভিশাপ (সূরা হুদ-১৮)।

জুলুম ব্যক্তির জন্য কিয়ামত দিবসে বিরুদ্ধ সাক্ষী হবে।

হাদিসে এসেছে, ‘জুলুম কিয়ামতের দিন অনেক অন্ধকার রূপ নেবে (সহিহ বুখারি-২৪৪৭; মুসলিম-৬৭৪১)।

রাসূল বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই যারা মানুষকে অন্যায়ভাবে কষ্ট দেয়, আল্লাহ তায়ালা তাদের শাস্তি প্রদান করবেন (মুসলিম-২৬১৩)।

তাই, অন্যের প্রতি জুলুম করা থেকে বেঁচে থাকতে হবে; জালিম সম্প্রদায়কে সহযোগিতা নয় বরং জালিমকে প্রতিহত করে মাজলুমকে রক্ষা করা হবে প্রতিটি মুসলমানের দায়িত্ব।

 

#সাইফুল্লাহ_রুবেল

লেখক : এমফিল গবেষক, প্রাবন্ধিক


Comments

Popular posts from this blog

সরেজমিন : ফিরে দেখা ১ ডিসেম্বর, কী ঘটেছিল সেদিন

সরেজমিন : ফিরে দেখা ১ ডিসেম্বর, কী ঘটেছিল সেদিন [এ লেখাটির প্রধান উদ্দেশ্য ইতিহাস সংরক্ষণে অংশগ্রহণ। কারণ ইতিহাসের যথাযথ সংরক্ষণ- এটি প্রতিটি প্রজন্মের উপর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের হক। আরেকটি উদ্দেশ্য হল, এতাআতী ভাইদের হেদায়েত কামনা। হয়ত এটা পড়ে তাদের কারো বোধ জাগবে, অন্তরে আল্লাহর ভয় সৃষ্টি হবে এবং সঠিক রাস্তায় ফিরে আসবে। হেদায়েত আল্লাহর হাতে, তিনিই তাওফীক দেওয়ার মালিক। আর যাদের মজলুমিয়াতের কিছুটা বিবরণ এই লেখায় উঠে এসেছে তাদের জন্য এটা ইহসান ও ইহতিসাবের সিফাত যিন্দা করার যরীআ হতে পারে। আল্লাহ তাদেরকে নিজের হেফাযতে রাখুন। এমন কথা ও কাজ থেকে বাঁচার তাওফীক দান করুন, যা মজলুমিয়াতের ফায়দা ও বরকত নষ্ট করে দেয় বা কমিয়ে দেয়। আশা করি, তারা পূর্বের মতো وَ لْیَعْفُوْا وَ لْیَصْفَحُوْا اَلَا تُحِبُّوْنَ اَنْ یَّغْفِرَ اللهُ لَكُمْ (তারা যেন ওদেরকে ক্ষমা করে এবং ওদের দোষ-ত্রুটি উপেক্ষা করে। তোমরা কি চাও না, আল্লাহ তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিন? -সূরা নূর (২৪) : ২২) -এর উপর আমল জারি রাখবেন। -তত্ত্বাবধায়ক]  - মাসউদুয যামান শহীদ ১ ডিসেম্বর ২০১৮।  মনে পড়ে যায় টঙ্গীর ইজতিমা ময়দানের সেই লোমহর্ষক কাহিনী, ...

ওলামা মাশায়েখদের খাস মজলিস। শেখ ইব্রাহীম দেওলা সাহেব (দাঃবাঃ)ভারত । ২০২৩। পুরাতন সাথীদের জোড় ২০২৩

ওলামা মাশায়েখদের উদ্দেশ্যে বয়ান আলামী শুরার আকাবীর হজরত মাওঃ ইব্রাহীম দেওলা সাহেব দাঃবাঃ পুরাতন সাথীদের ৫ দিনের জোড়। দিয়াবাড়ী উত্তরা, ঢাকা।

ইসলামিক অনলাইন মিডিয়া - পবিত্র কুরআন ও ছহীহ সুন্নাহর আলোকে

বাংলা ভাষায় ইসলামী জ্ঞানের বিভিন্ন উপকরণে সাজানো একটি ওয়েবসাইট। এতে আছে ১১ বিভাগ  নিচে ক্রম অনুসারে দেয়া হলো মূলপাতা কুরআন-হাদীছ প্রবন্ধ-নিবন্ধ গল্প ও কবিতা জীবনী প্রশ্নোত্তর/ফাতাওয়া ডাউনলোড ছবি/ভিডিও সংবাদ সাম্প্রতিক প্রসঙ্গ বিবিধ https://i-onlinemedia.net/