নবী করীম “ﷺ”-এর ইন্তেকাল হতে কিয়ামত পর্যন্ত সংঘটিতব্য ফিতনা ও তার সংখ্যা সম্পর্কে অভিহিত করণ | Al-Fitan-Nuaim bin Hammad-(Hadis 16- 20)
নবী করীম “ﷺ”-এর ইন্তেকাল হতে কিয়ামত পর্যন্ত সংঘটিতব্য ফিতনা ও তার সংখ্যা সম্পর্কে অভিহিত করণ (হাদীস ১৬-২০)
نعيم بن حماد - ١٦
حدثنا عبد الخالق بن يزيد
الدمشقي عن أبيه عن مكحول
عن حذيفة بن اليمان رضى الله عنه قال ما من صاحب فتنة
يبلغون ثلثمائة إنسان إلا ولو شئت أن أسميه باسمه واسم أبيه ومسكنه إلى يوم القيامة
كل ذلك مما علمنيه رسول الله صلى الله عليه وسلم
قالوا بأعيانها
قال أو
أشباهها يعرفها الفقهاء أو قال العلماء إنكم كنتم تسألون رسول الله صلى الله عليه
وسلم عن الخير وأسأله عن الشر وتسألونه عما كان وأسأله عما يكون
হাদিস
- ১৬
রাসুলুল্লাহ
ﷺ এর রহস্য সম্বন্ধে অবগত সাহাবী
হযরত হুজাইফা ইবনুল ইয়ামান رضي الله عنه এরশাদ করেন, ফিৎনার সাথে সংশ্লিষ্ট
লোক থেকে প্রায় তিনশতজন পর্যন্ত এমন রয়েছে, আমি ইচ্ছা করলে তাদের নাম, তাদের পিতা এবং
গ্রামের নাম পর্যন্ত বলতে পারবো। যারা কিয়ামত পর্যন্ত। তার সবকিছুই রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাকে জানিয়ে গিয়েছেন।
উপস্থিত
লোকজন জিজ্ঞাসা করলো, সরাসরি কি তাদেরকে দেখানো হয়েছে? উত্তরে তিনি বললেন, তাদের আকৃতি
দেখানো হয়েছে। যাদেরকে ওলামায়ে কেরাম এবং ফুকাহায়ে এজাম চিনতে পারবেন। হযরত হুজাইফা
ইবনুল ইয়ামান রাযিঃ বলেন, তোমরা রাসূলুল্লাহ সাঃ এর কাছে কল্যাণ সম্বন্ধে জানতে চাও,
কিন্তু আমি জানতে চেষ্টা করি অকল্যাণ বা খারাপী সম্বন্ধে আর তোমরা তাঁর কাছে জানতে
চাও ঘটে যাওয়া বিষয় সম্বন্ধে, আমি জানতে চাই ভবিষ্যতে যা হবে সে সম্বন্ধে।
[ আল
ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ১৬ ]
القدوس عن عفير بن معدان قال حدثنا قتادة قال
قال حذيفة سمعت رسول الله صلى
الله عليه وسلم يقول ليخرجن من أمتي ثلثمائة رجل معهم ثلثمائة راية يعرفون وتعرف
قبائلهم يبتغون وجه الله يقتلون على الضلالة
হাদিস
- ১৭
হযরত
হুজাইফা رضي الله عنه এরশাদ করেন, আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ কে বলতে শুনেছি, আমার ওম্মতের মধ্যে
এমন তিনশত লোক প্রকাশ পাবে যাদের সাথে তিনশত পতাকা থাকবে, যদ্বারা তাদের পরিচয় শনাক্ত
করা যাবে। বংশীয়ভাবে এরা খুবই পরিচিত হবে। তারা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের কথা প্রকাশ
করলেও যুদ্ধ করবে সুন্নাতের বিপরীত পথভ্রষ্টার উপর।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ১৭ ]
سنان عن أبي الزاهرية
عن حذيفة بن اليمان قال لو حدثتكم بكل ما أعلم ما رقبتم
بي الليل
হাদিস
- ১৮
বিশিষ্ট
সাহাবী হযরত হুজাইফা ইবনুল এমান رضي الله عنه হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, যাবতীয় ফিৎনা ফাসাদ আমি
যা জানি, সেগুলো যদি তোমাদেরকে বয়ান করি তাহলে তোমরা আমার সাথে বিনিদ্র অবস্থায় থাকতে
পারবে না।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ১৮ ]
ولا يزداد الأمر إلا شدة فإذا لم يلي الوالي للله ولم يؤدي المولى عليه طاعة الله
فأوشكوا بكره الله فإن كره الله اشد من كره الناس
হাদিস
- ১৯
হযরত
আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস رضي الله عنه হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, তোমাদের ওপর ফিৎনা-ফাসাদ,
অব্যাহত থাকবে এবং মোয়ামালা ধীরে ধীরে আরো কঠিন আকার ধারন করবে। যখন কোনো রাষ্ট্রপ্রধান
আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষে দেশ পরিচালনা করে না এবং রাষ্ট্রনায়কগণ আল্লাহ তাআলার
এবাদত করেনা তখন তোমরা আল্লাহ তাআলা অসন্তুষ্ট হওয়াকে খুবই ভয় কর। কেননা, আল্লাহ তাআলা
অসন্তুষ্ট হওয়া মানুষের অসন্তুষ্ট হওয়া থেকে মারাত্মক।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ১৯ ]
عن أيوب السختياني عن أبي قلابة
عن أبي إدريس قال كنت أنا وأبو صالح وأبو مسلم
فقال أحدهما
لصاحبه هل تخافون من شيء
قالوا نخاف الطلب قال فقلت إن
الطلب لا يدرك إلا أخريات الناس
قالوا صدقت إنه لم يكن نهب قط إلا كان له طلب
وإن الناس لم يصيبوا نهبا قط أعظم من الإسلام وإن الفتنة تطلبه وإنها لا تدرك إلا
أخريات الناس
হাদিস
- ২০
আবু
ইদরীস হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি, আবু সালেহ এবং আবু মুসলিম একসাথে ছিলাম। তারা দুইজনের
একজন অপরকে বলল, তোমরা কি কোনো বিষয়ের ভয় করছ? তারা বলল, আমরা মানুষের লোভ সম্বন্ধে
শংকিত। অতঃপর আমি বললাম, এমন লোভ একমাত্র আখেরী যামানার মানুষের মাঝে প্রকাশ পাবে।
উত্তরে
তার বলল, তুমি ঠিকই বলেছ, কেউ লোভবিহীন কখনো ছিনতাই ডাকাতী করতে পারেনা এবং মানুষ সবচেয়ে
বেশি ছিনতাই ইত্যাদির সম্মুখিন হবে একমাত্র ইসলামের ক্ষেত্রে। নিঃসন্দেহে যাবতীয় ফিৎনা
ফাসাদ ইসলামের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠবে এবং উক্ত ফিৎনা আখেরী যামানাতেই ব্যাপক আকার ধারন
করবে।
[ আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ২০ ]
https://habibur.com/kitab/nuaim/list/?filter-part=1
.jpg)
Comments
Post a Comment